ব্রিটেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তৎপরতার অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচ ব্যক্তির একজনকে গ্রেপ্তারের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই পুলিশে ফোন করেছিলেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। নতুন এই তথ্যের পর RAF Fairford ঘিরে চলমান তদন্ত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
রোববার ভোরে ইংল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের গ্লুচেস্টারশায়ারে RAF Fairford-এর কাছে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। পরে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
RAF Fairford মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে এখান থেকে বোমারু বিমান পরিচালনার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের একজন নিজেই ব্রিটেনের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন। ওই ফোনের প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় এক নারী তিনটি সাদা ভ্যান ও মুখ ঢাকা কয়েকজন ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাফেরা দেখে পুলিশকে খবর দেন। তবে ততক্ষণে পুলিশ ওই এলাকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পুলিশের অভিযানে পাঁচজনকে আটক করার পর এলাকায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আশপাশের প্রায় ৮৫টি পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সন্দেহজনক ভ্যানগুলো ঘিরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ করে।
তবে পরবর্তী তদন্তে তিনটি ভ্যানে কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি বলে ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে। একটি ভ্যান থেকে কিছু পরিমাণ পেট্রল উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচ সন্দেহভাজনকেই পরে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তারা সবাই লন্ডন এলাকার ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক।
ব্রিটিশ কাউন্টার-টেররিজম পুলিশের কর্মকর্তা লরেন্স টেলর জানিয়েছেন, জামিনে মুক্তি পেলেও তদন্ত শেষ হয়নি। সম্ভাব্য একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে তারা জেনে বা না জেনে কাজ করেছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।
ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘটনাটিতে কোনো ‘বিদেশি পক্ষের’ সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো ইরানের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেনি। তেহরানও এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ব্রিটিশ পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে গ্রেপ্তারের আগে এক সন্দেহভাজনের পুলিশে ফোন করা, তিনটি ভ্যানের উপস্থিতি এবং পরে বিস্ফোরক না পাওয়ার বিষয়গুলো তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
RAF Fairford-কে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকায় ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং পাঁচ ব্যক্তির সেখানে উপস্থিত থাকার কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি।
Geopulse TV
