আফগানিস্তানের কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। হামলায় তিনটি আবাসিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
মুজাহিদের দাবি, বুধবার রাতে কুনারের শুলতান জেলা এবং হেলমান্দের গার্মসের এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। এতে বেসামরিক মানুষের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
তালেবান মুখপাত্র আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলা বেড়েছে। তার দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্তে পাকিস্তানি হামলায় চারজন বেসামরিক নিহত হন। এর তিন দিন আগে কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলায় আরও তিনজন নিহত হন।
হামলার নিন্দা জানিয়ে মুজাহিদ একে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতেই পাকিস্তান আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপের ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তবে হামলার লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাগুলো ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান। পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত ধ্বংস করা হয়েছে। বেসামরিক হতাহতের অভিযোগও পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে, হামলায় হতাহতের বিষয়ে আফগানিস্তানের দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। দুই দেশের মধ্যে সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এসব হামলার ঘটনা ঘটল।
Geopulse TV
