নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ সামরিক বিমান দুর্ঘটনার পর এখনও চলছে উদ্ধার ও দেহ উদ্ধারের কাজ। সোমবার দেশটির ওন্দো প্রদেশের ইগবোকোডা এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নাইজেরিয়ান এয়ার ফোর্সের ATR-42 বিমানটি। বিমানটি বেনিন সিটি থেকে লাগোসের দিকে একটি নিয়মিত মিশনে যাচ্ছিল। পরে বিমানবাহিনী নিশ্চিত করে, বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু সদস্য মোট ২৫ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।
প্রথম দিকে বিমানটিতে ৩২ জন ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল। তবে পরে নাইজেরিয়ান এয়ার ফোর্স সংশোধিত তথ্য দিয়ে জানায়, NAF 931 বিমানে মোট ২৫ জন ছিলেন ৫ জন ক্রু এবং ২০ জন যাত্রী। দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই। দুর্ঘটনার আগে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ১৩ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ইগবোকোডার একটি নৌঘাঁটির কাছে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি নদী ও জলাভূমি এলাকার দিকে গিয়ে ভেঙে পড়ে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনাস্থলের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে। বিমানটির ধ্বংসাবশেষ জলাভূমির গভীরে ডুবে রয়েছে। ঘোলা জল, ঘন ম্যানগ্রোভ এবং দুর্গম এলাকা উদ্ধারকারীদের কাজ কঠিন করে তুলেছে। স্থানীয় ডুবুরিরা ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও সেটি শনাক্ত ও উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস এক্সকাভেটর বা ‘সোয়াম্প বগি’ এবং বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নাইজেরিয়ান এয়ার ফোর্স ২৫ জনের নাম প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানবাহিনী সাধারণ মানুষকে অনুমানভিত্তিক তথ্য বা যাচাই না-করা খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছে।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট Bola Tinubu দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে নাইজেরিয়ান এয়ার ফোর্সকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন মূল নজর রয়েছে জলাভূমিতে আটকে থাকা ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহ উদ্ধারের দিকে। পাশাপাশি তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ—যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া, নাকি অন্য কোনও কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল তা খতিয়ে দেখছেন।
Geopulse TV
