‘আমরা ইবোলার পিছু ছুটছি, ভাইরাসই এগিয়ে’, কঙ্গোয় ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ে হু-র সতর্কবার্তা

ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনও পিছিয়ে রয়েছে কঙ্গো। ভাইরাসের সংক্রমণ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। সংস্থার দাবি, কঙ্গোয় চলতি ইবোলা সংক্রমণ সরকারি ভাবে ঘোষণা হওয়ার অন্তত তিন মাস আগেই ছড়াতে শুরু করেছিল। ফলে শুরু থেকেই ভাইরাসের মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

গত ১৫ মে কঙ্গোতে ইবোলার নতুন সংক্রমণ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়। তার পর থেকে ১,৯০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও সংক্রমণের হার যথেষ্ট বেশি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বহু আক্রান্তের কাছে সময়মতো পৌঁছতে পারছেন না বলেও জানিয়েছে হু।

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলেই এই সংক্রমণের মূল কেন্দ্র। সেখানে নিরাপত্তাহীনতা এবং সংঘাতের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বুন্দিবুগিয়ো প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনও অনুমোদিত টিকা বা স্বীকৃত নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। ফলে আক্রান্তদের চিকিৎসা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বুনিয়া শহরে সাংবাদিক বৈঠকে হু-র আফ্রিকা শাখার প্রধান মোহামেদ জানাবি পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে বলেন, “আমরা ভাইরাসের পিছু ছুটছি, ভাইরাসই আমাদের থেকে এগিয়ে।” তাঁর বক্তব্য, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকেই ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে অনেক আক্রান্তকে ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডে আক্রান্ত বলে মনে করা হয়েছিল।

নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা এখনও মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ আক্রান্তের কাছে পৌঁছতে পারছেন। বাকিদের অনেকেই বাড়িতেই মারা যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জানাবি।

এ ছাড়াও স্থানীয় কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি অবিশ্বাস এবং মৃতদেহ ঘিরে প্রচলিত কিছু প্রথা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মৃতদেহে শোকপ্রকাশকারীদের স্পর্শ করার রীতির কারণে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ছে।

তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। পূর্ব কঙ্গোয় একাধিক বিশেষ চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। ফলে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৪,২৯৪টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ১,৯৬০টি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। এর আগে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ হয়েছিল পশ্চিম আফ্রিকায়, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। সেই সংক্রমণে ১১,৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

About Desk 3

Check Also

কঙ্গোর সংবিধান সংশোধন ঠেকাতে বিরোধীদের চাপ, তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (DRC) সংবিধান সংশোধনের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *