ফের মাসুদ আজহারকে ঘিরে বড় পদক্ষেপ পাকিস্তানের। জইশ-ই-মহম্মদের প্রধানকে দেশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিদের তালিকায় রেখেছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে তাঁর সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কারের অর্থ ২০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অক্টোবরের গুরুত্বপূর্ণ ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FAFT) পর্যালোচনা বৈঠকের আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের ধুসর তালিকায় ফেরার সম্ভাবনা ঠেকাতেই কি এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের?
পাকিস্তানের “ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি” বা FIA ২০২৬ সালের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের নাম। তাঁর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে গ্রেফতারে সাহায্য করলে পুরস্কারের অর্থ ২০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ রুপি করা হয়েছে।
অক্টোবরে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক রয়েছে। তার আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স হল আন্তর্জাতিক সংস্থা, অর্থ পাচার এবং জঙ্গি সংগঠনের অর্থের জোগান বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন দেশের নীতি ও ব্যবস্থার মূল্যায়ন করে। পাকিস্তানের লক্ষ হতে পারে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের ধূসর তালিকায় ফের ঢোকার সম্ভাবনা এড়ানো।
এর আগে ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তান দাবি করে আসছে, মাসুদ আজহার দেশ ছেড়ে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে। তবে এবার তাকে নিজেদের দেশে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলো ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স এর আগে তাঁর সম্পর্কে তথ্যের জন্য ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। পাকিস্তানের “ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি” নতুন রেড বুকে ২৬/১১ মুম্বাই হামলার সঙ্গে যুক্ত একাধিক জঙ্গির নামও রয়েছে। তালিকায় মোট ১৯ জনের নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মুম্বই হামলাকারীদের অর্থ, রসদ এবং অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে ১১ জন লস্কর-ই-তইবার সদস্যের নাম রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্রয়োজনীয় রসদ জোগানো এবং সমুদ্রপথে ভারতে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করার অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় রয়েছেন মহম্মদ আমজাদ খান, শাহিদ গফুর, মহম্মদ উসমান, আতিক-উর-রহমান, রিয়াজ আহমেদ, মহম্মদ মুস্তাক, মহম্মদ নইম, আবদুল শাকুর, মহম্মদ সাবির সালফি, মহম্মদ উসমান এবং শাকিল আহমেদ।
এছাড়াও ২৬/১১ হামলায় অর্থ জোগানোর অভিযোগে আরও ছয়জনের নাম রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন মহম্মদ ইফতিখার আলি, মহম্মদ জিয়া, মহম্মদ আব্বাস নাসির, জাভেদ ইকবাল, মুখতার আহমেদ এবং আহমেদ সইদ।
মাসুদ আজহারকে নিয়ে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ভারত তাকে ২০০১ সালের সংসদ হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি সংগঠনের প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রাষ্ট্রসংঘও জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ১৯৯৯ সালে IC-814 বিমান অপহরণের ঘটনায় যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত তাকে মুক্তি দিয়েছিল।
ভারত বারবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, মাসুদ আজহার ও হাফিজ সইদের মতো জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে ইসলামাবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে অজ্ঞতার ভান করে। সেই পরিস্থিতিতে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় তুলে ধরা পাকিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর একটি কৌশল কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
Geopulse TV
