ভারতের জল-সুরক্ষা মডেলকে UNHRC-তে প্রশংসা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় জোর

জেনেভা, ১৫ই সেপ্টেম্বর জল- সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতের মডেলকে প্রশংসা করলেন গ্লোবাল ইন্সিটিউট ফর ওয়াটার, পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের মহা পরিচালক ডঃ নিলাদ সেলিম। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের (UNHRC) ৬৩তম অধিবেশনের ফাঁকে তিনি বলেন, ডিজিটাল তথ্য এবং স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার করে জল-সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারত যে মডেল তৈরি করছে, তা বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে।

ভারতের জল-সুরক্ষা মডেল কীভাবে অন্য দেশগুলিকে পথ দেখাতে পারে, সেই বিষয়ে বলতে গিয়ে সেলিম জানান, বিপুল জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নাগরিকদের জল-সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারতের একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ভারত ডিজিটালাইজেশন এবং স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে একটি মডেল অনুসরণ করছে, যা অন্য দেশগুলিও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করতে পারে। সেলিমের মতে, এই মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্যবস্থাপনা সরঞ্জাম এবং অর্থনৈতিক পদ্ধতির ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভারতের এই মডেল শুধুমাত্র জল-সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও জানান GIWEH-র মহাপরিচালক। এর সঙ্গে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলিকেও যুক্ত করা হয়েছে। তিনি ভারতের কৃষিক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক পদ্ধতির উল্লেখ করে বলেন, অন্য দেশগুলির জন্য ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে তথ্যের ডিজিটালাইজেশন এবং সংখ্যাভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা। সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া জলসম্পদ নিয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সেলিম। তাঁর মতে, কোনও দেশ একা এই ধরনের জলসম্পদ পরিচালনা করতে পারে না। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে এই জলসম্পদের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন। এই কাজে রাষ্ট্রসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সেলিম বলেন, সীমান্তবর্তী জলসম্পদের এলাকাগুলির উন্নয়ন সহযোগিতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। এই ধরনের সম্পদের সঙ্গে যুক্ত এলাকাগুলিতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপরও গুরুত্ব দিতে হবে। জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি শুধু এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে জল ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় প্রয়োজন। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে একসঙ্গে বসে তথ্য ভাগ করে নিতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। জল ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে দুর্বল জনগোষ্ঠীর দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন সেলিম। নিরাপদ জল এবং স্যানিটেশনে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জলসম্পদ নিয়েও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। দ্বিতীয় ইউ.এন. ওয়াটার কনফারেন্সের প্রসঙ্গ তুলে সেলিম ‘ওয়াটার ফর কোঅপারেশন’-র গুরুত্বও ব্যাখ্যা করেন।

About Desk 3

Check Also

গোয়া দখল করতে কেন ১৪ বছর লাগলো ভারতের ?

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও, দেশের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গোয়া তখনও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *