সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা। রবিবার, ১১ অক্টোবর রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় এক পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (GACA) এই খবর জানিয়েছে। হামলায় বিমানবন্দরেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগের দিন অর্থাৎ শনিবারও এই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন। রবিবার ভারতীয় দূতাবাস জানায়, আহত ১১ জন ভারতীয়র মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে দূতাবাস। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মৃতদেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, রিয়াধের ভারতীয় দূতাবাস আহতদের পাশে রয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য করা হচ্ছে।
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শনিবারের হামলার পর থেকেই আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন দূতাবাসের আধিকারিকরা। আহত ভারতীয়রা যে হাসপাতালগুলিতে ভর্তি রয়েছেন, সেখানেও গিয়েছেন তাঁরা। দূতাবাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে তিনজন আইসিইউতে রয়েছেন। তবে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। আরও দু’জন সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটি ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ অজ্ঞাত পরিচয় একটি বস্তু আঘাত হানায় আগুন লাগে বলেও জানানো হয়েছিল। শুধু রিয়াধ নয়, রবিবার সন্ধ্যায় দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার খবর সামনে এসেছে। GACA জানিয়েছে, সেখানে ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরীক্ষা চলছে।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপের জবাব দিতেই এই হামলা বলে দাবি করেছে হুথিরা। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সৌদির পূর্বাঞ্চলের শুগাদাম গ্যাস কেন্দ্র ও তানাজিব তেল শোধনাগার এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর পাশাপাশি, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে বিমান চলাচল না করার জন্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা, বিমানকর্মী ও যাত্রীদের সতর্ক করেছে হুথিরা। তবে মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর এবং ওই দুই শহরের আকাশসীমাকে এই সতর্কতার বাইরে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের অধীনে থাকা সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, ‘ডন অফ ইয়েমেন’ অভিযানে তারা ১,৭৩২টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযানে ৯০০-র বেশি হুথি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৮৭টিরও বেশি সামরিক যান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকেজো করা হয়েছে।
Geopulse TV
