ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬-এ পৌঁছেছে। এখনও ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। নেপাল ও তিব্বত-সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দুর্গত জেলাগুলিতে জোরকদমে চলছে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি আটকে পড়া মানুষজনকে বিপজ্জনক এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিতওয়ানে ২৩৩টি, নওয়ালপরাসি ইস্টে ১৫৮টি, গোরখায় ৪৮টি, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ৪৭টি, ধাদিংয়ে ৪৫টি, নুয়াকোটে ৪১টি, তানাহুনে ৩১টি এবং রাসুয়ায় ১৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
বন্যার জলে ভেসে আসা ধ্বংসাবশেষ এবং ভূমিধসের কারণে বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলি সেই সব রাস্তা পরিষ্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ফের সচল করার চেষ্টা করছে। রাস্তা খুলে গেলে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি পরিষেবা পৌঁছনো আরও সহজ হবে।
এই বিপর্যয়ে বহু ভারতীয়ও নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বুধবারের হড়পা বানের পর প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বা তাঁরা নিখোঁজ বলে খবর। ভারতীয় বংশোদ্ভূত, তবে অন্য দেশের নাগরিক—এমন আরও প্রায় ১০০ জনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয় নাগরিককে দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। চিনের তিব্বত অংশে থাকা প্রায় ৪০০ ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে রয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
নিখোঁজ ও বিপদে থাকা ভারতীয়দের খোঁজে বিদেশ মন্ত্রক ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে। কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসও দিনরাত জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
জানা গিয়েছে, বুধবার নেপালের রাসুয়ায় আছড়ে পড়া ভয়াবহ হড়পা বানের সূত্রপাত চিনের তিব্বত অঞ্চলে। সীমান্ত পেরিয়ে ভোতে কোশি নদীর প্রবল স্রোত নেপালে ঢুকে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ ও নিখোঁজদের সন্ধান অভিযান এখনও জোরকদমে চলছে।
Geopulse TV
