প্রেসিডেন্টের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দিতে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে গণভোটে যেতে চলেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনিয়া-বিসাউ। আগামী ৩০ আগস্ট এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই ভোট হতে চলায় দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজরও রয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন সংবিধানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ এবং বরখাস্ত করতে পারবেন। পাশাপাশি নতুন মন্ত্রক তৈরি বা কোনও মন্ত্রক বিলুপ্ত করার ক্ষমতাও তাঁর হাতে থাকবে। এমনকি মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট নিজেই।
গুরুতর রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হলে প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দিতে পারবেন বলেও প্রস্তাবিত সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার বরখাস্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হবে প্রেসিডেন্টকে। ফলে দেশের নির্বাহী ক্ষমতা আরও বেশি করে প্রেসিডেন্টের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিরোধীরা।
সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে দেশের সংসদের আকারও ছোট করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ১০২ সদস্যের সংসদ কমিয়ে ৬৫ সদস্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী কেন্দ্রের সংখ্যা ২৯ থেকে কমিয়ে ১২ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সমর্থকদের দাবি, এই সংস্কারের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এর ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে প্রেসিডেন্টের হাতে প্রায় লাগামছাড়া ক্ষমতা চলে যেতে পারে।
গিনিয়া-বিসাউয়ের লুসোফোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যানুয়েল নোব্রে দে বারোসের মতে, এই সংস্কার কার্যকর হলে নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আসবে।
প্রস্তাবিত সংবিধানে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের জন্য নতুন যোগ্যতার শর্তও রাখা হয়েছে। প্রার্থীকে ভোটের আগের টানা পাঁচ বছর গিনিয়া-বিসাউয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক এক দিন আগে সেনা আধিকারিকরা ক্ষমতা দখল করেছিলেন। সেই সামরিক শাসনের পর এবার গণভোট এবং ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন ঘিরে দেশে ফের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ফলে ৩০ আগস্টের গণভোটকে গিনিয়া-বিসাউয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Geopulse TV
