ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে বাস-উএলে (Bas-Uele) প্রদেশে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় দেশটির মোট ছয়টি প্রদেশে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে।
আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, প্রতিবেশী একটি অঞ্চল থেকে বাস-উএলে আসা এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়। ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল-ট্যাক্সি চালক ছিলেন এবং অসুস্থ হওয়ার পর একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে বুটা শহরে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর পরীক্ষায় হেমোরেজিক ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এরপর তাঁর কয়েকজন সহকর্মী জোর করে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। এতে আরও মানুষের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, চলমান প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পূর্ব কঙ্গোয় এখন পর্যন্ত প্রায় ২,১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত। WHO আশঙ্কা করছে, বর্তমান পরিস্থিতি সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন না পাওয়া, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হুমকি, দীর্ঘদিনের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষোভ এবং ইবোলা নিয়ে ছড়ানো নানা ভুল তথ্য।
বাস-উএলে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোর বিশাল একটি প্রদেশ, যার সীমান্ত রয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে। সংঘাত, স্বর্ণখনি ঘিরে মানুষের চলাচল এবং দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সেখানে রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
WHO জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে ইবোলা ছড়িয়েছে। শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ সংক্রমণ এবং ৮০ শতাংশ মৃত্যু ইতুরি প্রদেশে কেন্দ্রীভূত।
প্রাদুর্ভাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ মে ঘোষণা করা হলেও জেনেটিক সিকোয়েন্সিংয়ে দেখা গেছে, এর সূত্রপাত আরও আগে—ফেব্রুয়ারিতে।
Geopulse TV
