গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, বোর্ড অব পিস হামাস-সহ গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। তাঁর দাবি, গাজায় নতুন ফিলিস্তিনি সরকার প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ফিলিস্তিনি সরকার বোর্ড অব পিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করবে এবং গাজার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে গাজা যাতে ভবিষ্যতে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইজরায়েলের নিরাপত্তাও বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হামাসের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, গাজায় সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনায় তাঁরা সম্মতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলের পক্ষ থেকে এই চুক্তি নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে হামাসের অস্ত্রভাণ্ডার এবং সশস্ত্র কার্যকলাপ বন্ধ করা ইজরায়েলের অন্যতম প্রধান দাবি। ইজরায়েল জানিয়েছে, যে কোনও শান্তি চুক্তির আগে গাজা থেকে হামাসের অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং গোটা অঞ্চলকে সম্পূর্ণ ভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা প্রয়োজন। ফলে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে এই সম্ভাব্য সমঝোতা গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে একই সময়ে গাজায় ইজরায়েলি সেনার সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিস্থিতি এখনও জটিল। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজার যে অংশ বর্তমানে ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইজরায়েল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্য রাখছে।
এই পরিস্থিতিতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষিত চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। চুক্তির শর্ত, বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি।
Geopulse TV
