ভারতের রেল পরিবহনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো হরিয়ানার জিন্দ থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার জিন্দ রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেনের উদ্বোধন করেন। জিন্দ-সোনিপত রুটে চলাচল শুরু করা এই ট্রেনকে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে প্রায় ১২ হাজার ৪৭০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত একাধিক জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে ১৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি-অমৃতসর-কাত্রা এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশও রয়েছে। এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দিল্লি থেকে কাত্রা যেতে সময় প্রায় ১৪ ঘণ্টা থেকে কমে ৬ ঘণ্টা এবং দিল্লি থেকে অমৃতসর যেতে সময় ৮ ঘণ্টা থেকে প্রায় ৪ ঘণ্টায় নেমে আসবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছরে ভারতীয় রেলওয়েতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর ভাষায়, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন চালুর মাধ্যমে জিন্দ ভারতের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতের রেল পরিবহন হাইড্রোজেন প্রযুক্তিনির্ভর হবে এবং এই প্রযুক্তির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত করা হবে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা, প্রকৌশল ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ট্রেনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ডিজেল বা পেট্রোলের প্রয়োজন হয় না এবং চলাচলের সময় কোনো কার্বন নিঃসরণ হয় না। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ট্রেনটি চলে এবং এর একমাত্র উপপণ্য হলো জলীয় বাষ্প।
১০ কোচের এই ট্রেনে একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৬০০ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। জিন্দ-সোনিপত ৮৯ কিলোমিটার রুটে ট্রেনটির পরিচালনগত গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ নকশাগত গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। নিরাপত্তার জন্য এতে হাইড্রোজেন লিক, তাপমাত্রা, আগুন ও ধোঁয়া শনাক্ত করার আধুনিক ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।
ভারতীয় রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত এখন জার্মানি, জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরিচালনাকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো। ভবিষ্যতে কালকা-শিমলা ঐতিহ্যবাহী রেলপথেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
Geopulse TV
