এনজিও ও বিভিন্ন সংস্থার জন্য বিদেশি অনুদান (FCRA) সংক্রান্ত নিয়ম আরও কড়া করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সোমবার জারি হওয়া গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনকে আরও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যভিত্তিক করা হয়েছে, জরিমানার কাঠামো সংশোধন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় কার্যকলাপের ক্ষেত্রে ‘ধর্মান্তরকরণ’ (Proselytisation) স্পষ্টভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে এখন থেকে সংস্থার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং কোন কোন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তারা কাজ করবে, তা উল্লেখ বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীদের একটি নির্দিষ্ট তালিকা (schedule) থেকে নিজেদের কার্যকলাপ বেছে নিতে হবে। ইতিমধ্যেই নিবন্ধিত সংস্থাগুলিকে এক বছরের মধ্যে নতুন Form FC-6F জমা দিয়ে জানাতে হবে, তারা কোন উদ্দেশ্য এবং ভৌগোলিক ক্ষেত্র বজায় রাখতে চায়।
এই তালিকায় ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষামূলক এবং সামাজিক—এই পাঁচটি শিরোনামে অনুমোদিত কার্যকলাপ উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় বিভাগে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বার, মঠ, সিনাগগ এবং অন্যান্য উপাসনাস্থল নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ, ধর্মগ্রন্থ সংরক্ষণ, ধর্মশালা, লঙ্গর এবং ধর্মীয় শিক্ষার মতো কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই বিভাগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল—এই সমস্ত কার্যকলাপের ক্ষেত্রেই “ধর্মান্তরকরণ ব্যতীত” শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় দর্শন, ধর্মতত্ত্ব ও ইতিহাসের গবেষণা, নথিভুক্তকরণ এবং সংরক্ষণ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, সৎসঙ্গ, ধর্মীয় আলোচনা এবং মেডিটেশন ক্যাম্প আয়োজনের ক্ষেত্রেও ‘ধর্মান্তরকরণ’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদিবাসী ও স্বদেশীয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস এবং উপাসনা পদ্ধতির নথিভুক্তকরণ, সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রেও একই শর্ত বহাল থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক “key functionary”-এর সংজ্ঞাও বিস্তৃত করেছে। এখন থেকে কোম্পানির ডিরেক্টর, পার্টনার, ট্রাস্টি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের (HUF) কর্তা এবং সংস্থার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী অন্যান্য ব্যক্তিদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নন এমন বিদেশি নাগরিক যদি key functionary হন, তবে সাধারণত সেই সংস্থাকে রেজিস্ট্রেশন বা অনুমতি দেওয়া হবে না, যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার ব্যতিক্রম করতে পারে।
বিদেশি অনুদানের ব্যবহারেও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা গত দুই অর্থবছরে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা বিদেশি অনুদান ব্যবহার না করলে, সেটিকে “Reasonable Activity” হিসেবে গণ্য করা হবে না—যা নবীকরণ বা বাতিলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এছাড়া Prior Permission-এর ক্ষেত্রে, আগের কিস্তির ৭৫ শতাংশ খরচ এবং মাঠপর্যায়ে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড়া হবে না।
নতুন ফর্মে আরও বেশি তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিবরণ, বিস্তারিত কার্যকলাপ রিপোর্ট এবং সংস্থা বা key functionary-দের প্রকাশিত সামগ্রীর তথ্য। এছাড়া donor-advised fund বা মধ্যবর্তী অর্থপ্রেরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ এলে, সেই অর্থের প্রকৃত দাতার তথ্যও জানাতে হবে।
আলাদা একটি বিজ্ঞপ্তিতে, বিভিন্ন FCRA লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার কাঠামোও সংশোধন করা হয়েছে। প্রশাসনিক খরচে নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি বিদেশি অনুদান ব্যয় করলে জরিমানা হবে ১ লক্ষ টাকা বা অতিরিক্ত ব্যয়ের ৫ শতাংশ—যেটি বেশি। জল্পনামূলক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জরিমানা হবে ১ লক্ষ টাকা বা বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ—যেটি বেশি—এবং সেই বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ১০০ শতাংশ মুনাফা ফেরত দিতে হবে। অনুমোদিত উদ্দেশ্য থেকে অর্থ সরিয়ে অন্যত্র ব্যবহার করলে জরিমানা হবে ১ লক্ষ টাকা বা অপব্যবহৃত অর্থের ৩০ শতাংশ—যেটি বেশি।
Geopulse TV
