রাষ্ট্রসংঘের দুই বিশেষজ্ঞ হত্যাকাণ্ডে ৫৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ বছরের পুরনো মামলায় ঐতিহাসিক রায় কঙ্গোর আদালতের

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) উচ্চ সামরিক আদালত রাষ্ট্রসংঘের (ইউএন) দুই বিশেষজ্ঞ হত্যাকাণ্ডের বহুল আলোচিত মামলায় ৫৪ জন অভিযুক্তকেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা এই মামলার রায় শুক্রবার রাজধানী কিনশাসার এনডোলো সামরিক কারাগারে ঘোষণা করা হয়।
নিহত দুই রাষ্ট্রসংঘ বিশেষজ্ঞ ছিলেন মার্কিন তদন্তকারী মাইকেল শার্প (৩৪) এবং সুইডিশ বিশেষজ্ঞ জাইদা ক্যাটালান (৩৬)। ২০১৭ সালে সংঘাত-বিধ্বস্ত কাসাই অঞ্চলে সহিংসতার তদন্ত করতে গিয়ে তাঁরা নিহত হন।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। পরে তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিযুক্ত করে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, দুই বিশেষজ্ঞকে একটি ওত পেতে থাকা হামলার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
দোষীদের মধ্যে রয়েছেন কঙ্গোর সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা কর্নেল জ্যঁ দ্য দিয়্যু মাম্বওয়েনি। তিনি একসময় দেশটির ২১তম সামরিক অঞ্চলের স্টাফ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে মাম্বওয়েনিকে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাহায্য না করা এবং ঊর্ধ্বতন নির্দেশ অমান্যের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী বিচারিক পর্যালোচনায় বিচারকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, রাষ্ট্রসংঘের দুই বিশেষজ্ঞকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। সেই কারণেই এবার তাঁকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে ডিআর কঙ্গোর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সিএনডিএইচ) এই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের দাবি, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা নির্দেশ দিয়েছিল বা পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল, তাদের সবাইকে শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
২০১৭ সালের ১২ মার্চ মাইকেল শার্প ও জাইদা ক্যাটালান কাসাই অঞ্চলে গণহত্যার অভিযোগ তদন্ত করছিলেন। সেই সময় কামুইনা এনসাপু মিলিশিয়ার সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র যোদ্ধারা ময়ো-মুসিলা গ্রামের কাছে একটি সেতুর ওপর তাঁদের আটকায়। পরে তাঁদের একটি নির্জন বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে হত্যা করা হয়। হামলার ১৬ দিন পর তাঁদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল।
ডিআর কঙ্গোতে মৃত্যুদণ্ড আইনত বৈধ। যদিও ২০০৩ সাল থেকে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ছিল এবং আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করা হতো। তবে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সরকার ২১ বছরের সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। ফলে বর্তমানে দেশটিতে আবারও কার্যকরভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

About Desk 1

Check Also

কঙ্গোতে সরকারবিরোধী জোট গড়লেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, এম২৩-সহ একাধিক গোষ্ঠীকে নিয়ে

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জোসেফ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *