মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়াল পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। রিয়াধে জরুরি বৈঠকের পর তিন দেশ তাদের ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।
মক্কা জোটের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। গত অগস্টে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের উপর হামলা হিসেবেই বিবেচিত হবে। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে রাজনৈতিক ও সামরিক স্তরে হওয়া আলোচনার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরপর প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সৌদি আরবে কত সেনা মোতায়েন করা হবে, তা এখনও জানানো হয়নি। মোতায়েনের নির্দিষ্ট সময়সীমাও প্রকাশ করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের সময় সৌদি আরবে হুথিদের হামলার ঘটনাও সামনে রয়েছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৈঠকে অংশ নেন। খাজা আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের বাহিনী বর্তমানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তান নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজেও যুক্ত রয়েছে। মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তিন দেশ। সৌদি আরবের শহর, সাধারণ মানুষের পরিকাঠামো এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধেও অবস্থান জানিয়েছে তারা। বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল নওমান মাহমুদকে মক্কা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর মেয়াদ হবে তিন বছর। এই বৈঠককে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন আলোচনার পর্যায়ে থাকা চুক্তি এবার বাস্তবায়নের দিকে এগোল।
Geopulse TV
