ইসলামাবাদ সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ না করা পর্যন্ত ঐতিহাসিক সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিতই থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে পাকিস্তান মিডিয়াতে প্রচারিত “ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানে বন্যা সৃষ্টি করছে”—এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দেন তিনি।
মুখপাত্র জানান, গত ২০ থেকে ২৩ জুলাই জম্মু ও তৎসংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকায় প্রচণ্ড মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলেই চেনাব নদীতে সাময়িকভাবে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হাইড্রোলজিক্যাল প্রতিক্রিয়া, ভারতের কোনো ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ নয়। এমনকি লাহোরের নিজস্ব ‘ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশন’ও স্বীকার করেছে যে এই উচ্চ প্রবাহের মূল কারণ ছিল ক্যাচমেন্ট এলাকার অতিবৃষ্টি। ভারত তথ্য গোপন করেছে—এমন দাবি নস্যাৎ করে জয়সওয়াল বলেন, পানির পরিমাণ বিশেষ সতর্কবার্তা জারির মতো কোনো ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় পৌঁছায়নি; তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী কূটনৈতিক মাধ্যমে বন্যা সম্পর্কিত তথ্য দেওয়া হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে চীনের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত কখনোই চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি। বরং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন ভারতেরই তোলা উচিত, কারণ ১৯৬৩ সাল থেকে চীন জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে ভারতের ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এমনকি ভারতের ভূখণ্ডেই চীন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালাচ্ছ, যা নিয়ে নিউ দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়ে আসছে।
এছাড়া, গত ১৯ জুলাই ওডেসা (Odesa) বন্দরে ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ জাহাজে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মুখপাত্র বলেন, কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ইতোমধ্যেই আসিয়ান সম্মেলন ও শীর্ষ বৈঠকে এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথেও আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন।
Geopulse TV
