নাইরোবি: কেনিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়োজিত বিদেশী নাগরিকদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর কঠোর নির্দেশের পর তৈরি হওয়া ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মুখে অনিবন্ধিত বুরুন্ডীয়সহ পূর্ব আফ্রিকানদের বৈধকরণের লক্ষ্যে বিশেষ নিবন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে কেনিয়া সরকার।
সোমবার কেনিয়ার সরকারি মুখপাত্র চার্লস ওউইনো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা নিজেদের দূতাবাস বা হাই কমিশনের মাধ্যমে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ তাদের কাগজপত্র নিয়মিত করতে কূটনৈতিক মিশনগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলাকালীন এসব নাগরিককে সাময়িকভাবে কেনিয়ায় বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে আশ্বাস দেন ওউইনো।
ব্যবসায়ীদের ওপর কড়াকড়ি ও দূতাবাসে ভিড়: এর আগে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করা বিদেশী নাগরিকদের কাজ বন্ধের জন্য সোমবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছিল যে, অনেক বিদেশী নাগরিক ভিসার নিয়মের সুযোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র (Work Permit) ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশের পর স্থানীয় ছোট দোকান ও হকারিদের কাছ থেকে বুরুন্ডীয় ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এর পরপরই নাইরোবিতে বুরুন্ডীয় দূতাবাসে দেশে ফেরার জন্য বিনামূল্যে ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হাজার হাজার নাগরিকের দীর্ঘ সারি দেখা যায় এবং অনেকেই টিকিট কেটে কেনিয়া ছাড়ার চেষ্টা চালান।
সরকারের দুঃখপ্রকাশ ও সমঝোতার উদ্যোগ: পরিস্থিতি সামাল দিতে কেনিয়া সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিদেশী ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো ঢালাও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। ইতিহাস ও আঞ্চলিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করেই এই বিশেষ নিবন্ধনের সুবিধা চালু করা হয়েছে।
এদিকে, নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যার কারণে বুরুন্ডীয় নাগরিকরা যে হয়রানির শিকার হয়েছেন, সে জন্য কেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কোরির সিংওই প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি নাইরোবস্থিত বুরুন্ডীয় দূতাবাসে গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।
Geopulse TV
