এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের ভোটে অযোগ্য করার বিধান যুক্ত না করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। এর আগেও গত ২৯ জুলাই ইসির সঙ্গে বৈঠকে একই দাবি জানিয়েছিল দলটি।
জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
তিনি বলেন, দেশে ৩০ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক রয়েছেন। অতীতে তাঁরা বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়া ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে তাঁদের অযোগ্য করার যে সুপারিশ করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, একজন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না—এ ধরনের বিধান বৈষম্যমূলক। তাঁর মতে, এটি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
নিষিদ্ধ দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপত্তি
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকার যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে, সেসব দলের নেতা বা পদধারী ব্যক্তিদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এ কারণে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবিও নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়েছে দলটি।
ইসির নিয়োগ ও প্রশাসক পদ নিয়ে উদ্বেগ
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শামসুল আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনবিষয়ক কমিটিতে শামসুল আলম দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। এমন নিয়োগ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, জামায়াতের এই উদ্বেগের বিষয়টি সরকারের কাছে জানানো হবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে দলটি।
জামায়াতের আশঙ্কা, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসব ব্যক্তি স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নিজেদের রাজনৈতিক মাঠ প্রস্তুত করার সুযোগ পেতে পারেন। তাই যাঁরা এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারে অংশ না নেওয়ার দাবি
জামায়াত আরও দাবি জানিয়েছে, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিরা যেন স্থানীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন।
নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমানে নির্বাচন বর্জনের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং তাঁর দল এখনো আশাবাদী।
তবে নির্বাচন কমিশনের ওপর দলীয় সরকারের কোনো চাপ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁদের কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। জামায়াত চায় নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করুক।
স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয় না উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে দলের স্থানীয় শাখাগুলোকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এবং সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১১–দলীয় ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনের জন্য ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে জোটভুক্ত প্রতিটি দল নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী দিতে পারবে।
ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ, আবদুর রব ও মোবারক হোসাইন, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান (মোমেন) এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত।
Geopulse TV
