ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা নবম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও পড়তে শুরু করেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোরমোজ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বুশেহর প্রদেশের দাশতি কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র খোরমোজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সামরিক স্থাপনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ জর্ডানের একটি জনবিরল এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর আকাবায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
Geopulse TV
