মাঝ আকাশে আচমকাই ভয়াবহ পরিস্থিতি! ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটিকেই ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন সহপাইলট এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে। অভিযোগ, অটোপাইলট বন্ধ করে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটিকে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নামিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের তৎপরতা এবং দুই অফ-ডিউটি পাইলটের হস্তক্ষেপে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।
ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ওমানি সহপাইলট হাম্মাম আল হাম্মামি ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে সরিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া। সহপাইলটের পরিকল্পনা ছিল বিমানটিকে ইসরায়েলের তেল আবিবে নিয়ে গিয়ে একটি বহুতলে ধাক্কা দেওয়া। তবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। এরপরই বিমানটিকে সৌদি আরবের মরুভূমিতে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর অটোপাইলট বন্ধ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ কাঠি নিচের দিকে ঠেলে দেন সহপাইলট। এর ফলে বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। আচমকা বিমানের উচ্চতা এত দ্রুত কমতে শুরু করায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় কয়েকজন যাত্রী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে পেশায় প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুন নিয়ন্ত্রণ কাঠি নিজের দিকে টেনে ধরেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর এই তৎপরতায় বিমানটির দ্রুত নিচে নামা বন্ধ হয়। এরপর বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাঁরা পরিস্থিতি সামলে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করান। ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সহপাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। পাশাপাশি ওমানের ওই সহপাইলট কীভাবে ইসরায়েলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে ইতালীয় সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রতিবেদনে উঠে আসা দাবিগুলি তদন্তের মাধ্যমে কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়, সেটিই এখন দেখার।
Geopulse TV
