ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলামাতা শহর পুনর্দখলের পর টাইগ্রের আরও ভেতরে অগ্রসর হচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনী। তিন দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলামাতা শহর ও এর আশপাশে সরকারি বাহিনী এবং টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ভারী গোলাবর্ষণে আবাসিক এলাকা ও একটি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
টাইগ্রের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭০০-এর বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতালের কিছু কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডসাঁ সঁ ফ্রতিয়ের (MSF) সহায়তা রয়েছে।
সরকারি বাহিনী আলামাতার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এখন আরও উত্তরে অগ্রসর হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত টাইগ্রের রাজধানী মেকেলের কাছাকাছি কোরেম এলাকাতেও নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কয়েক মাস ধরে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও টিপিএলএফের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। দুই পক্ষই ২০২২ সালের শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের জন্য পরস্পরকে দায়ী করে আসছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে কয়েক বছর ধরে চলা ভয়াবহ টাইগ্রে যুদ্ধের অবসান হয়েছিল।
এবারের সংঘাত টাইগ্রের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী আফার ও আমহারা অঞ্চলেও লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় ইথিওপিয়ায় আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা আগের টাইগ্রে যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। সেই সংঘাতের পর আবারও একই অঞ্চলে সহিংসতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
Geopulse TV
