ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে স্কুলে গিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন ইবোলা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিরা। গত সপ্তাহে স্কুল খোলার পর গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলের বেনিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করে ইবোলা সারভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন।
ইবোলার প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল বেনিতে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন রোগ থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা। তাদের লক্ষ্য, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং কীভাবে সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া।
ইবোলা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা জিসেল এনজিয়াভেকে বলেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং সেখান থেকে পাওয়া শিক্ষা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
তবে স্কুলগুলোতেও রয়েছে নানা সংকট। ম্যাপামবাজুকো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেবেকা কাহিন্দো কাপুতু জানান, স্কুলে পানির কল থাকলেও অনেক সময় টানা দুই, তিন এমনকি চার দিন পর্যন্ত পানি আসে না। এমনকি শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটারও নেই।
এদিকে পূর্ব কঙ্গোর ছয়টি প্রদেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ছে। বিদ্রোহী সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি এবং ব্যাপক জনসংখ্যা স্থানান্তরের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নজরদারির ঘাটতি, পর্যাপ্ত কনট্যাক্ট ট্রেসিং ও পরীক্ষাগারের সক্ষমতার অভাবও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের ইভ্রেবো টিকা দেওয়া শুরু করেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই টিকা কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেশি হতে পারে। তাদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে ছাড়িয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে রোগটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা সংকট—২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই মহামারিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
Geopulse TV
