ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবটি বুন্ডিবুগিও (Bundibugyo) স্ট্রেইন-এর কারণে ছড়িয়েছে। এটি ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তিনটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ অক্টোবর বা নভেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে।
এরই মধ্যে ডিআর কঙ্গো, WHO ও ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের সহযোগিতায় চলতি মাসে একটি পরীক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। অন্য একটি ইবোলা স্ট্রেইনের জন্য তৈরি টিকা বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে কি না, তা যাচাই করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
এদিকে ইবোলা মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গোর পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা নতুন করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ইবোলা মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গোকে ৭৫ লাখ ইউরো সহায়তার ঘোষণা দেয়। ইউরোপীয় কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ইবোলা সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা, রোগ শনাক্তকরণ, প্রস্তুতি ও নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ব্যয় করা হবে।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রও চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আরও ২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের চিকিৎসা এবং কার্যকর টিকা ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
Geopulse TV
