সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বেলজিয়াম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও বৈশ্বিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দুই নেতা স্পষ্টভাবে বলেছেন, যেকোনো রূপে, যেকোনো স্থানে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদের কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর প্রকাশিত ভারত-বেলজিয়াম যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ, বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে সংহতি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গত বছরের এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলারও নিন্দা জানান তিনি।
দুই দেশ মনে করে, জাতিসংঘ ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠন, তাদের নেটওয়ার্ক, নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং অর্থায়নের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ভারত-বেলজিয়াম যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে দুই দেশ।
বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইউক্রেন সংকটের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে স্থায়ী শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয় দুই দেশ। পশ্চিম এশিয়ায়ও শান্তিপূর্ণভাবে সংকট সমাধানে সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
ভারত-বেলজিয়াম অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, রাসায়নিক, ওষুধ, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পারমাণবিক শক্তি ও টেকসই শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্ল্যান্ডার্স ফিল্ডসে প্রাণ দেওয়া ৯ হাজারের বেশি ভারতীয় সেনার আত্মত্যাগও স্মরণ করেন দুই নেতা। ২০২৭ সালে ভারত-বেলজিয়াম কূটনৈতিক সম্পর্কের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
Geopulse TV
