ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আমিরশাহি সফরে যাচ্ছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আবুধাবিতে আয়োজিত রাইসিনা মিডল ইস্ট ফোরামেও অংশ নেবেন তিনি। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নানা পরিবর্তনের মধ্যে জয়শঙ্করের এই সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে চলতি সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দিকেও নজর থাকবে এই সফরে।
ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। গত কয়েক বছরে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশ একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি ও আবুধাবি। জয়শঙ্করের এই সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে ভারত এবং আমিরশাহির পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। ভারত ও আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার উপর জোর দেওয়া হতে পারে। জ্বালানি, পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ভারতের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। অন্যদিকে, আমিরশাহির কাছেও ভারত একটি বড় বাণিজ্যিক বাজার। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়লে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেই কারণে জয়শঙ্করের এই সফরকে শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও মজবুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হল আবুধাবিতে রাইসিনা মিডল ইস্ট ফোরামে অংশগ্রহণ। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং বিশেষজ্ঞরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মতো বিষয় সেখানে গুরুত্ব পায়। এই মঞ্চে জয়শঙ্করের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারতের বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানি আমদানি, বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থের দিক থেকেও পশ্চিম এশিয়া ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমিরশাহির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রাখা নয়াদিল্লির বিদেশনীতি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সব মিলিয়ে, এস জয়শঙ্করের এই সফরে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসতে চলেছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো থেকে শুরু করে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও মজবুত করা, সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতার নতুন সুযোগ খোঁজার চেষ্টা থাকবে। আবুধাবির রাইসিনা মিডল ইস্ট ফোরামে তাঁর অংশগ্রহণও এই সফরের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এখন আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক কোন নতুন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।
Geopulse TV
