গোয়া দখল করতে কেন ১৪ বছর লাগলো ভারতের ?

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও, দেশের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গোয়া তখনও পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ১৫১০ সালে আলফনসো দে আলবুকার্কের আগমনের পর থেকে প্রায় সাড়ে চারশো বছর ধরে গোয়ায় পর্তুগিজ শাসন বজায় ছিল। GeoPulse TV-এর এই ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, স্বাধীনতার পরও কেন গোয়াকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে আরও ১৪ বছর সময় লেগেছিল।

এই প্রতিবেদনে তৎকালীন কূটনৈতিক জটিলতাগুলি বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও দে অলিভেইরা সালাজারের নেতৃত্বে পর্তুগাল কীভাবে গোয়াকে একটি ‘বিদেশি প্রদেশ’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং ন্যাটোর সদস্যপদ পর্তুগালকে কীভাবে কৌশলগত সুবিধা দিয়েছিল, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১৯৫৫ সালের অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং ১৯৬০ সালে জাতিসংঘের সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে, যেখানে গোয়াকে একটি স্বশাসনহীন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।

প্রতিবেদনের শেষাংশে রয়েছে ১৯৬১ সালের ১৮–১৯ ডিসেম্বর পরিচালিত ‘অপারেশন বিজয়’-এর বিস্তারিত বিবরণ। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখার সমন্বয়ে পরিচালিত এই দ্রুতগতির সামরিক অভিযান প্রায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে निर्णায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়। অভিযানের পর গোয়ার পর্তুগিজ গভর্নর-জেনারেল ম্যানুয়েল আন্তোনিও ভাসালো ই সিলভা আত্মসমর্পণ করেন। এর মধ্য দিয়েই গোয়ায় দীর্ঘ পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং অঞ্চলটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে আসে।দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ইতিহাস, আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জানতে দেখুন GeoPulse TV-এর সম্পূর্ণ তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ। ঐতিহাসিক ঘটনা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আলোকে জানুন, কীভাবে কূটনীতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সামরিক পদক্ষেপ গোয়ার মুক্তির পথ তৈরি করেছিল।

About Desk 3

Check Also

মাসুদ আজহার ইস্যুতে পাকিস্তানকে রাষ্ট্রসংঘে কড়া জবাব ভারতের

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণসভায় পাকিস্তানের বিরুধে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দিচারিতার অভিযোগ তুলো ভারত। দিল্লির দাবি, জইশ- ই- মহম্মদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *