দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ আইনজীবীদের সুযোগ বাড়াতে তৈরি বিশেষ নিয়ম বাতিল করল আদালত। এই নিয়মে বড় আইন সংস্থাগুলির মালিকানায় কৃষ্ণাঙ্গদের বেশি সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকার নিয়মটি চালু করার আগে ঠিকমতো বিচার করেনি বলে জানিয়েছে আদালত। তবে কৃষ্ণাঙ্গদের সুযোগ দেওয়ার এই নিয়ম সংবিধান মেনে তৈরি হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি আদালত।
বুধবার গাউতেং হাইকোর্ট এই রায় দেয়। আদালত জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যমন্ত্রী পার্কস তাউ নিয়মটি প্রস্তাবের আগে নিজের মতো করে তার প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখেননি। কেন এই নিয়ম চালু করা দরকার, তার যথাযথ ব্যাখ্যাও দেননি তিনি। তাই মন্ত্রীর অনুমোদন বাতিল করে নিয়মটি নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২০২৪ সালে এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মধ্যে বড় আইন সংস্থাগুলির ৫০ শতাংশ মালিকানা কৃষ্ণাঙ্গদের হাতে দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ মালিকানা কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের হাতে রাখার নিয়মও ছিল। আইন সংস্থার পরিচালন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষ্ণাঙ্গদের বেশি সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার চারটি বড় আইন সংস্থা ডেনিস রেইটজ, বোম্যান্স, ওয়েবার ওয়েন্টজেল এবং ওয়ার্কসম্যানস এই নিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। তাদের সঙ্গে ছিল শ্রমিক সংগঠন সলিডারিটি। সংগঠনটির প্রধান ডার্ক হারম্যান এই রায়কে সরকারের বর্ণভিত্তিক নীতির বিরুদ্ধে বড় জয় বলে দাবি করেছেন। তবে এই রায়ের ফলে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য চালু থাকা সব ধরনের বিশেষ সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়নি। শুধু আইনজীবীদের জন্য তৈরি এই বিশেষ নিয়মের প্রস্তাবটি বাতিল হয়েছে। এই নিয়মের সমর্থকদের বক্তব্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বড় আইন সংস্থাগুলিতে এখনও কৃষ্ণাঙ্গদের মালিকানা ও নেতৃত্বে যাওয়ার সুযোগ কম। গুরুত্বপূর্ণ মামলার দায়িত্বও তাঁদের হাতে তুলনামূলকভাবে কম আসে। তাই তাঁদের আরও সুযোগ দেওয়ার জন্য এই নিয়ম প্রয়োজন ছিল। আদালতের এই রায়ে সরকারের এই উদ্যোগ ধাক্কা খেল। তাই এখন বাণিজ্য মন্ত্রীকে নিয়মটি আবার খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
Geopulse TV
