ইবোলা ভাইরাস নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির পর হামলায় নিহত হয়েছেন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) ক্ষমতাসীন দলের এক রাজনীতিক। রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইবোলা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পরই তিনি হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে তার দল।
নিহত রাজনীতিকের নাম মেরি-সেলেস্তিন কারোন্ডওয়া। তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউডিপিএস দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রোববার উত্তর কিভু প্রদেশের বুতেম্বো শহরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার হামলার শিকার হন তিনি। ইউডিপিএসের দাবি, হামলার পর তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইবোলা ভাইরাসের অস্তিত্ব এবং এটি জনগণের জন্য যে ঝুঁকি তৈরি করছে—এ বিষয়ে দলের অবস্থান সমর্থন করার কারণেই কারোন্ডওয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ডিআর কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকায় অবিশ্বাস ও গুজবের কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগ প্রতিরোধে কাজ করা দলগুলোও নানা ধরনের বাধার মুখে পড়ছে। এর আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দেশটিতে ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোয় ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৬৭ জনে পৌঁছেছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৯০১ জনের। প্রাদুর্ভাবটি দেশটির ২৬টি প্রদেশের মধ্যে সাতটি প্রদেশের ৬৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইবোলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানুষের চলাচল এবং রোগটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অবিশ্বাস—সব মিলিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। উত্তর কিভুতে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কারোন্ডওয়ার মৃত্যুর ঘটনা ইবোলা মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা ও মানুষের আস্থার সংকটও কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা আবারও সামনে আনল।
Geopulse TV
