নেপালের বন্যাদুর্গতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ বিশ্লেষণ শুরু ভারতীয় ফরেনসিক দলের

নেপালে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে সহায়তা করতে ১৯ সদস্যের একটি ভারতীয় ফরেনসিক দল ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছে।

ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নেপালের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাঠমান্ডু উপত্যকার খুমালতার এলাকায় অবস্থিত নেপাল পুলিশ সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ বিশ্লেষণ শুরু করেছেন।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনা দ্রুত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য নেপালি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছেন ভারতীয় সদস্যরা। এর মাধ্যমে নিহত এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার পর নেপালকে সহায়তায় চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতীয় ফরেনসিক দলটি মোতায়েন করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ হাজার ৬৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি মরদেহের কেবল আংশিক দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, যা পরিচয় শনাক্তের কাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী বন্যার পর মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিচয়হীন মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে এসব নমুনা সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে চিতওয়ান জেলায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শত শত মরদেহ নদীতীরবর্তী খোলা স্থানে দাফন করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৪ হাজার ৬০৬ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। বিপুলসংখ্যক মানুষের নিখোঁজ থাকার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, রাসুওয়া ও নুয়াকোট জেলার ভোতেকোশি ও ত্রিশুলি নদীর করিডরসংলগ্ন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

About Desk 2

Check Also

গোয়া দখল করতে কেন ১৪ বছর লাগলো ভারতের ?

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও, দেশের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গোয়া তখনও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *