আফ্রিকার কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আরও ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১০ কোটি ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
বৃহস্পতিবার তিনি জানান, ইবোলা মোকাবিলায় জাতিসংঘের ২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৮ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় অঙ্কের সহায়তার কারণে এই অর্থায়ন সম্ভব হলেও পরিস্থিতির তুলনায় আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও অর্থ সহায়তা এখনও অপর্যাপ্ত বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
গুতেরেস বলেন, অতিরিক্ত অর্থ না পাওয়া গেলে এমন এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে, যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা। অঞ্চলটিতে নিরাপত্তাহীনতা, মানুষের বাস্তুচ্যুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট এবং ব্যাপক জনসংখ্যার চলাচল ভাইরাসটির বিস্তার আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাব ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই মহামারিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।
চলমান প্রাদুর্ভাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, এর বিস্তার শুরু হয়েছিল আরও আগে, ফেব্রুয়ারি থেকেই। শুরুতে মাত্র তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও বর্তমানে তা প্রায় ৬০টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের বড় একটি অংশ এমন সব সম্প্রদায়ের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে, যারা আগে থেকে পর্যবেক্ষণে থাকা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকার বাইরে ছিল। ফলে সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এর জন্য দায়ী বিরল বুনদিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে সম্ভাব্য টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ওই অঞ্চলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।
ইবোলা নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম সীমিত করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিমানবন্দর বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে আক্রান্ত ছয়টি প্রদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশে বিদ্রোহী সহিংসতার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
Geopulse TV
