PM interacts with participants of Viksit Vibrant Village Programme 2026 via video conferencing on July 26, 2026.

সীমান্ত গ্রামের সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান মোদির, ‘উন্নত ভারত’ গড়ার ভিত্তি শক্তিশালী গ্রাম

ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামের সঙ্গে দেশের তরুণদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, একটি উন্নত ভারতের ভিত্তি গড়ে ওঠে উন্নত গ্রামকে কেন্দ্র করেই। তাই সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়ন ও সেখানকার মানুষের সঙ্গে তরুণদের সংযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেরা যুবা ভারত (মাই ভারত)’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের তরুণরা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁর মতে, তরুণরাই যেমন উন্নত ভারতের চালিকাশক্তি, তেমনি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সুফলভোগীও তারাই। জাতীয় সমস্যা সমাধানে তরুণদের উদ্যম ও উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগানো গেলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদি জানান, ‘বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণদের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে গিয়ে সেখানকার জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। এই কর্মসূচিতে প্রায় তিন লাখ তরুণ অংশ নেন। সেখান থেকে বাছাই করে ৪০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্তের মানুষ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সবসময় দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারের ‘ফার্স্ট ভিলেজ’ বা ‘প্রথম গ্রাম’ নীতির আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দ্রুত উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো অনেক গ্রামে সড়ক, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মোদি বলেন, ভারতের সংস্কৃতিতে সম্মিলিত অংশগ্রহণের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। একসঙ্গে কাজ করা, গান গাওয়া এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে। সরকারও উন্নয়ন থেকে এতদিন পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একক ভ্রমণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক তরুণ-তরুণী একা এই কর্মসূচিতে অংশ নিলেও শেষে তারা একটি পরিবারের সদস্যের মতো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বিশেষ করে তরুণীদের স্বতন্ত্র অংশগ্রহণ ভারতের নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সাহসের প্রতীক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি তরুণ-তরুণী, বিশেষ করে মেয়েদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সীমান্ত অঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সীমান্ত গ্রামের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করেন। আজ দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ৪০০ জনের বেশি তরুণ তাদের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নেন।

About Desk 3

Check Also

বন্যাকবলিত নেপালে দ্বিতীয় দফায় ত্রাণ পাঠাল ভারত

আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের মানুষের জন্য দ্বিতীয় দফায় মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার সামগ্রী পাঠিয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *