ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রেল অবকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে গত সন্ধ্যায় পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে ভার্চুয়ালি দেশের ২০টি রাজ্যের ৭৫টি পুনর্উন্নত (Redeveloped) রেল স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্প ‘अमृत भारत স্টেশন স্কিম’ (ABSS)-এর অধীনে প্রায় ১,৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্টেশনগুলোকে বিশ্বমানের যাত্রী-বান্ধব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ‘বিরাসত ভি, বিকাশ ভি’ (ঐতিহ্যও, উন্নয়নও) মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে প্রতিটি স্টেশনের স্থাপত্যে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পাঞ্জাবের জলন্ধর ক্যান্টনমেন্ট, গুজরাটের পোরবন্দর, ওড়িশার বারিপদা এবং দক্ষিণ রেলওয়ের আওতাধীন ৯টি স্টেশন অন্যতম।
এই অনুষ্ঠানে জলন্ধর থেকে প্রধানমন্ত্রী দুটি নতুন ট্রেনের ফ্ল্যাগ অফ করেন। এর মধ্যে ‘কার্তোলি-আম্বালা’ ট্রেন সার্ভিস পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের মধ্যে সংযোগ বাড়াবে। আর ‘সন্ত রবিদাস এক্সপ্রেস’ (অমৃতসর থেকে বারাণসী) ভারতের দুটি প্রধান আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এছাড়া, তিনি ৫,৪৭০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন রেল ও সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যার মধ্যে ৩০.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের গ্রিনফিল্ড দিল্লি-অমৃতসর-কাটরা এক্সপ্রেসওয়ের (প্যাকেজ-৬) উদ্বোধনও অন্তর্ভুক্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উন্নয়ন মূলত ‘নাগরিক দেবো ভবঃ’ মন্ত্র দ্বারা পরিচালিত।
এর আগে একই দিনে হরিয়ানার জিন্দ রেল স্টেশন থেকে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের (Hydrogen-powered train) ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। পরিবেশ-বান্ধব এই ট্রেনটি জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যকার ৮৯ কিলোমিটার দূরত্ব মাত্র দুই ঘণ্টায় অতিক্রম করবে। জিন্দে তিনি প্রায় ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এরপর চণ্ডীগড়ে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সড়ক অবকাঠামো খাতের আরও ৪,৭০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়নকাজের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
Geopulse TV
