জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি আজ সন্ধ্যায় তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। সফরের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
এই সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় করবেন দুই দেশের নেতারা।
ভারত ও জাপানের সম্পর্ক বহু পুরনো। দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত আদান-প্রদান, আধ্যাত্মিক যোগাযোগ এবং স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর।
২০১৪ সালে ভারত-জাপান সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করা হয়। আগামী ২০২৭ সালে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই দীর্ঘ পথচলায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ভারত-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (Comprehensive Economic Partnership Agreement) ২০১১ সালের ১ আগস্ট কার্যকর হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
ভারতে অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ জাপান। ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত জাপানের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের পরিকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জাপানি সংস্থাগুলির বিনিয়োগ রয়েছে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও ভারত ও জাপানের সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই দেশ একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ভারত ও জাপানের সম্পর্ক বিশেষভাবে দৃঢ়। জাপানের মানুষের মধ্যে যোগ, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর আগ্রহ রয়েছে। বৌদ্ধধর্মের ঐতিহাসিক যোগসূত্র এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক মিল বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে।
সানা তাকাইচির এই সফরকে ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনের সহযোগিতায় প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Geopulse TV
