উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে “সেকেলে ও বাস্তবতাবিবর্জিত স্বপ্ন” বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুমকির মুখে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও সম্প্রসারণ করতে থাকবে।
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, উত্তর কোরিয়াকে (ডিপিআরকে) একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, “ডিপিআরকের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা খর্ব করার মার্কিন প্রচেষ্টার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বক্তব্য মেনে চলারও কোনো বাধ্যবাধকতা কারও নেই।”
তিনি গত মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। ওই বৈঠকে দুই নেতা উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণের অভিন্ন লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল। তবে কিম ইয়ো জং এ তথ্যকে “ভুয়া তথ্য” বলে উড়িয়ে দেন।
তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনও তাদের বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন এবং সেকেলে স্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে পারেননি।”
২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উন আন্তর্জাতিকভাবে উত্তর কোরিয়াকে একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, যাতে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জোরালো করা যায়।
গত সপ্তাহে একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা পরিদর্শনের সময় কিম জং উন ঘোষণা করেন যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি “জ্যামিতিক হারে” বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার তিনি একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কিম ইয়ো জং তার বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে “অবিরাম অস্ত্র প্রতিযোগিতা” উসকে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার যে নীতি কিম জং উন অনুসরণ করছেন, তা “অপরিবর্তনীয় এবং নিঃশর্তভাবে বাস্তবায়নযোগ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত”।
এদিকে, সোমবার শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের কথা রয়েছে, যা গত সাত বছরে তার প্রথম সফর। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে রাশিয়ার গুরুত্ব বাড়লেও এই সফরের মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চীনের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে বেইজিং। তারা মনে করছেন, শি জিনপিং সরাসরি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি না তুলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের সমর্থনে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছে সেনা ও প্রচলিত অস্ত্র পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, এর বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সহায়তা পেয়েছে পিয়ংইয়ং।
Geopulse TV
