ইরানের ‘ফের হুমকি’, ব্রিটেন থেকে সব বোমারু বিমান সরাল আমেরিকা

ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমানঘাঁটি আর.এ.এফ. ফেয়ারফোর্ডকে ঘিরে নতুন করে বাড়ল উদ্বেগ। সম্ভাব্য নতুন হুমকির খবর সামনে আসার পর ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকার সমস্ত দূরপাল্লার মার্কিন বোমারু বিমানকে ব্রিটেন থেকে সরিয়ে আমেরিকার নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন সময় নেওয়া হল, যখন কয়েকদিন আগেই ওই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান একটি কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুলিশ পাঁচ জন কে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ব্রিটেনের আর.এ.এফ. ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে মোতায়েন থাকা সমস্ত মার্কিন দূরপাল্লার বোমারু বিমানকে আমেরিকাতে ফিরিয়ে দাওয়া হয়েছে। এক মার্কিন আমেরিকার উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, নতুন করে এক ‘অজ্ঞাত হুমকি’ সামনে আসার পরই বিমান গুলি সরিয়ে নেওয়ার সিধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঠিক কী ধরণের হুমকি পাওয়া গিয়েছে, সেই বিষয়ে কোন বিস্তারিত খবর দেননি ওই মার্কিন আধিকারিক। বিমানগুলোকে কেন সরিয়ে নেওয়া হল তাঁরও কোন নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাওয়া হয়নি। ফলে আর.এ.এফ. ফেয়ারফোর্ডকে ঘিরে নিরপত্তা পরিস্তিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কয়েক দিন আগের একটি ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর আর.এ.এফ. ফেয়ারফোর্ডের কাছে ব্রিটিশ পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহ ছিল। গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনই ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাঁদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাঁরা লন্ডন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

পরে অবশ্য ওই পাঁচজনকেই জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল,এআর.এ.এফ. ফেয়ারফোর্ডকে লক্ষ্য করে ইরানের সঙ্গে যুক্ত একটি কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁদের আটক করা হয়েছিল। আর.এ.এফ. ফেয়ারফোর্ড ব্রিটেনে মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সেখানে আমেরিকার দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন হুমকির জেরে বিমানগুলি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা সামরিক ও কূটনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় ইরানের সরাসরি ইনভলমেনট-এর অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরান পুরো অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। একইসঙ্গে অভিযোগ সামনে আসার পর তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকেও তলব করেছিল ইরান। এখনও পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেনের তরফে নতুন হুমকিটির প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে আর.এ.এফ. ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সাময়িক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে ব্রিটেনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে চলা নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে।

About Desk 3

Check Also

আমিরশাহি সফরে এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আমিরশাহি সফরে যাচ্ছেন ভারতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *