ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের সব এয়ারলাইনকে বিশ্বজুড়ে ‘বন্ধ’ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে জ্বালানি, বিমানবন্দরে অবতরণ সুবিধা কিংবা টিকিট বিক্রির মতো সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ওয়াশিংটনের বৃহত্তর ‘Operation Economic Outcast’-এর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করা।
এদিকে, চলমান সংঘাত ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলায় এই সপ্তাহে ইরান ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের আলোচনার দিকে নজর রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন।
একই সময়ে ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংলাপের আহ্বানও জোরালো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার গারগাশ তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন মানসিকতার’ প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নয়, ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যেও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
কাতারও দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা তৈরিতে কাতার কাজ করছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য লোহিত সাগরের উপকূলকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও। যুক্তরাজ্যের Maritime Trade Operations সংস্থা জলপথটির আশপাশে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ-সংক্রান্ত ঘটনার ওপর নজর রাখছে।
সর্বশেষ ঘটনায় দুটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি LPG ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাত উৎসের প্রজেক্টাইলের ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অন্য একটি ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশের সময় অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাত পেয়েছে বলে জানা গেছে। এর একটি ঘটনায় দুই নাবিক সামান্য আহত হয়েছেন।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
Geopulse TV
