তাইওয়ানকে ঘিরে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ল। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজ এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বেজিং। চিনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের বক্তব্য, অন্য দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক বজায় রাখার অধিকার রয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের জন্য কোনও দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়।
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চিন। তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিক স্তরে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করে বেজিং। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে আমেরিকা-সহ বেশ কয়েকটি দেশ। এই বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও চিনের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম কারণ। চিনের অভিযোগ, তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বেলিজ ও প্যারাগুয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা চিনের স্বার্থের বিরোধিতা করছেন। সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে আমেরিকা জানিয়েছে, কোনও দেশের উপর কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, বেলিজ ও প্যারাগুয়ে এখনও তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলির মধ্যে রয়েছে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখলেও অল্প কয়েকটি দেশ এখনও তাইওয়ানকে স্বতন্ত্র কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাইওয়ানকে ঘিরে এই টানাপোড়েন শুধু চিন ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলছে না, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
Geopulse TV
