মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিয়ে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুই পক্ষের

মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য ইরান নয়, ইজরায়েলের আগ্রাসী নীতিকেই দায়ী করল তেহরান। ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের দাবি, আমেরিকার সমর্থনে ইজরায়েলের দখলদারি ও সামরিক অভিযানই গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তার পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলছে। একই সঙ্গে গাজা ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ইরানের ‘প্রক্সি’ বা মদতপুষ্ট শক্তি বলে দাবি করার বিরোধিতা করেছে তেহরান।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের দূতাবাস জানিয়েছে, গাজা ও লেবাননের মানুষ কোনও দেশের হয়ে লড়াই করছেন না। তাঁরা নিজেদের জমি, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার জন্য লড়ছেন। ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজারের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করেছে ইরান। ইজরায়েলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার দাবিকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে তেহরান। কাতার ও বৈরুতে হামলা, গাজায় ব্যাপক ধ্বংস এবং গোলান মালভূমি দখলের প্রসঙ্গ তুলে ইরানের অভিযোগ, ইজরায়েলের নীতিই মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির অন্যতম প্রধান কারণ। গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার সে দেশের মানুষের ক্ষত ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হামাসের সামরিক ক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও কথা বলেন তিনি। এর পরেই ইজরায়েলের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেয় ইরান। দূতাবাসের দাবি, দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থেকেও ইরান নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে তেহরান।

About Desk 3

Check Also

আমিরশাহি সফরে এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আমিরশাহি সফরে যাচ্ছেন ভারতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *