রাশিয়া ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (NATO) মহাসচিব মার্ক রুট্টে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের প্রতি ন্যাটোর সমর্থন বন্ধ বা দুর্বল করতে মস্কোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ন্যাটো সদর দপ্তরে লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিনদাউগাস সিঙ্কেভিচিয়াসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুট্টে। তিনি জানান, ন্যাটো ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং রাশিয়ার বিভিন্ন ‘গ্রে জোন’ বা পরোক্ষ তৎপরতার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা জোটটির রয়েছে।
রুট্টের ভাষায়, রাশিয়া ন্যাটোর ঐক্য দুর্বল করা এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বন্ধ করাই লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে। তবে তার দাবি, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে এবং ন্যাটোর ঐক্য ও কিয়েভের প্রতি সমর্থন দুর্বল করার ক্ষেত্রে—দুই ক্ষেত্রেই রাশিয়া কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারছে না। বরং ইউক্রেনের প্রতি আরও সমর্থন দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
রুট্টে আরও বলেন, ন্যাটোর মিত্রদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কথিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে ড্রোন হামলা, নাশকতা ও সাইবার হামলার মতো বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা থাকতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে জোটের হাতে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যদিও সব প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে জানানো হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে একই দিনে এস্তোনিয়া অভিযোগ করে, দেশটির রাজধানী তালিনে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মিলরেম রোবোটিক্সে আগস্টে হওয়া অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এস্তোনিয়ার তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, হামলাটি রুশ নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশে সংঘটিত হয়েছিল। তবে ক্রেমলিন এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিঙ্কেভিচিয়াসও ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, রাশিয়া ইউরোপে আরও বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে নেই।
এর মধ্যেই ন্যাটো পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। রুট্টে জানান, ড্রোনসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটো সমন্বিত ও বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ইউরোপে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ন্যাটোর এই অবস্থান সামনে এলো। ইউক্রেনের প্রতি সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সামরিক জোটটি।
Geopulse TV
