হাসিনা ইস্যুতে টানাপোড়েন, তবু কেন বাংলাদেশের দিকে হাত বাড়াচ্ছে ভারত?

একদিকে শেখ হাসিনা ইস্যু, অন্যদিকে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েনের আবহ। তারপরও সম্পর্কের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না নয়াদিল্লি। বরং একের পর এক কূটনৈতিক বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার বার্তা দিচ্ছে ভারত।

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন থাকলেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না ভারত। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে মতপার্থক্য এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি। ভারতের জোর এখন দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার দিকে।

তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে সফরটি যাতে ভবিষ্যতে হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে সদ্য শেষ হওয়া ব্রিকস সম্মেলনেও বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সেই সম্মেলনে যোগ দেননি তারেক রহমান।

এই পরিস্থিতিতেও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাহেদ উর রহমান এর আগে দিল্লি সফরের সময় বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত কারণে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন। তাঁর কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট না থাকায় বিষয়টি নিয়ে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। পরে জাহেদ জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

এদিকে জলসম্পদ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী শাহিদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেন। কারণ, দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা। চুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার বিষয়টি এখনও বাংলাদেশের কাছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি ভারত দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক এবং জনসংযোগের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। ফলে টানাপোড়েনের মধ্যেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দরজা খোলা রাখছে নয়াদিল্লি।

About Desk 3

Check Also

পতেঙ্গা, লালদিয়ার পর নিউমুরিংও বিদেশিদের হাতে! চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে কীসের খেলা ?

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (NCT) দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ডের (DP World) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *