ক্যানবেরা: ব্যবহারকারীদের নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ (Switch Off) করার সুযোগ দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিল উত্থাপন করার কথা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস জানান, প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার’ আইনের লক্ষ্য হলো এতদিন ধরে কোনো ধরনের মৌলিক নিরাপত্তা নিয়ম মেনে না চলা এই খাতে মৌলিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মেটা, গুগল ও টিকটকের মতো টেক জায়ান্টগুলো যদি ব্যবহারকারীদের অ্যালগরিদম বন্ধের বিকল্প বা সুযোগ না দেয়, তবে তাদের ওপর ‘ভারী অর্থদণ্ড’ আরোপ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইন প্রণয়ন ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি: সরকার জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে অ্যালগরিদম ব্যবহারে গ্রাহকদের জন্য ‘অপ্ট-ইন’ নাকি ‘অপ্ট-আউট’ পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে, তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
সোমবার এবিসি (ABC)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনিকা ওয়েলস বলেন, “আমরা অস্ট্রেলীয়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চাই। অনেকেই হয়তো নিজের পছন্দ অনুযায়ী ব্যবসার কাজ বা বিনোদনের জন্য অ্যালগরিদম বজায় রাখতে চাইবেন। কিন্তু বিগ টেক কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব শুরুতেই এই বেছে নেওয়ার সুযোগটি দেওয়া।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই পদক্ষেপ কোনো ধরনের সেন্সরশিপ নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ঝুঁকি বা ক্ষতিকর উপাদান চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে সেই ঝুঁকি কমাতে বাধ্য করাই এই আইনের উদ্দেশ্য।
বিরোধী দল ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিক্রিয়া: অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লিবারেল পার্টির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর এই উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের নামে কার্যত সোশ্যাল মিডিয়ায় বাকস্বাধীনতা হরণ ও সেন্সরশিপ আরোপ করতে চাইছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রখ্যাত সম্মতি ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী চ্যানেল কন্টোস (Chanel Contos) সম্প্রতি এক ভাষণে অ্যালগরিদমভিত্তিক ফিডকে সম্পূর্ণ ‘অপ্ট-ইন’ করার দাবি জানান। তার মতে, অ্যালগরিদম তরুণ প্রজন্মকে নারীবিদ্বেষী ও সহিংস বিষয়বস্তুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা দেশে যৌন সহিংসতার পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
Geopulse TV
