নেপালে ভয়াবহ বন্যার জেরে বিপাকে বিদেশি পর্যটকরা। দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে একাধিক ট্রেকিং রুট ও সেতু। এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন ১০০-র বেশি বিদেশি ট্রেকার। অন্যদিকে, বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ৩২১ জনকে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোরের আগে গোরখা জেলায় ধসের কারণে বুধি গণ্ডকী নদীর গতিপথ আটকে যায়। এর জেরে নদীতে জল জমে পরে তা উপচে পড়ে এবং নিম্নবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এই ঘটনা ঘটে। বন্যার জলে ভেসে যায় একাধিক বাড়ি, সেতু ও ট্রেকিংয়ের রাস্তা। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ৩২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি। তবে এখনও ১০০-র বেশি বিদেশি ট্রেকার বিভিন্ন জায়গায় আটকে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যাঁরা ফিরে আসতে চান, তাঁদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় পরিস্থিতি নিরাপদ, সেখান থেকে ট্রেকিং চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, নদীর জলস্তর কমলেও উদ্ধারকাজ চলবে।
এদিকে, এই বন্যায় এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে পাঁচ জন স্থানীয় বাসিন্দার খোঁজ মেলেনি। বন্যার জলে কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে একাধিক বাড়ি এবং তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকাঠামোর ক্ষতি করেছে। উল্লেখ্য, বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি শাখা। গত অগস্টে হিমবাহ ধসের জেরে ত্রিশূলী নদীর অন্য একটি শাখায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেই বিপর্যয়ে ১,৪৫৭ জনের মৃত্যু হয় এবং এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
Geopulse TV
