রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাঁর এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন আমেরিকার একদল সেনেটর। শুধু বিরোধী দলের নয়, ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সেনেটরও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালের একটি মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মস্কোর সঙ্গে এই ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ। ফলে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির অনুমতি দিয়ে সেই আইন ভাঙা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সেনেটরদের আরও অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি। এমনকী, কেন এই অনুমতি দেওয়া হল, তার ব্যাখ্যাও কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া হয়নি। অথচ আইন অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে জানানো এবং তার কারণ ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সেই কথোপকথনের পরই তিনি জানান, রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে ৩ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে এই ডিজেল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই আমেরিকার কংগ্রেসে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে। ‘Sanctioning Russia and Iran Act’ নামের ওই আইনে রাশিয়ার উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্টকে। পাশাপাশি, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে রাশিয়ার পাঁচটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ক্ষমতাও রয়েছে এই আইনে। ফলে একদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই দেশ থেকেই ডিজেল আমদানির অনুমতি—ট্রাম্প প্রশাসনের এই দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
Geopulse TV
