ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলে সেনা মোতায়েন, ফের বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে প্রদেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় আধিকারিক ও বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিনে টাইগ্রের আদিগ্রাত শহরের আশপাশে ইরিত্রিয়ার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই সেনারা দক্ষিণ দিকে এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এর ফলে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট বা TPLF এবং ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর জেরে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ফের শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইথিওপিয়ার অভিযোগ, ইরিত্রিয়া TPLF-কে সমর্থন করছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী স্থানীয় মিলিশিয়াদের সহযোগিতায় TPLF-কে পিছনে ঠেলে দিয়েছে। সপ্তাহান্তে টাইগ্রে রাজধানী মেকেলের নিয়ন্ত্রণও নেয় সরকারি বাহিনী। TPLF কোনও বড় সংঘর্ষ ছাড়াই শহর ছেড়ে সরে যায়। AFP-কে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মেকেলে থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার উত্তরে ইরিত্রিয়া সীমান্তের পথে অবস্থিত আদিগ্রাতে ইরিত্রিয়ার সেনা রয়েছে। তারা দক্ষিণ দিকে এগোচ্ছে। টাইগ্রে পিস ফোর্সের কমান্ডার গেব্রেইজিয়াবের বেইনে জানিয়েছেন, ইরিত্রিয়ার সেনারা ইউনিফর্ম পরে ভারী অস্ত্র নিয়ে তিগ্রেতে প্রবেশ করেছে। তাঁর দাবি, ওই বাহিনী ড্রোন হামলার মুখেও পড়েছে। তাঁর মতে, ইরিত্রিয়া এমনভাবে সেনা মোতায়েন করছে যাতে লড়াই টাইগ্রের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং ইরিত্রিয়ায় না ছড়ায়। আদিগ্রাতে দুই প্রত্যক্ষদর্শী রাস্তায় ইরিত্রিয়ার সেনাদের দক্ষিণ দিকে যেতে দেখেছেন। এক স্থানীয় আধিকারিক জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকায় ইরিত্রিয়ার সেনা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বড় ট্রাক, সামরিক যান ও অন্যান্য গাড়িতে করে ভারী অস্ত্র নিয়ে সেনারা দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

মেকেলের পশ্চিমেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আদওয়া শহরের এক বাসিন্দার দাবি, সপ্তাহান্তে শহরের কয়েকটি হোটেলে ড্রোন হামলা হয়। ওই হামলায় কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন। ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ইরিত্রিয়া। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ সীমান্ত যুদ্ধ হয়। ২০১৮ সালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছিল। এমনকি ২০২০ থেকে ২০২২ সালের গৃহযুদ্ধের সময় ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার হয়ে TPLF-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। তবে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক ফের অবনতি হতে শুরু করে। ইরিত্রিয়ার আশঙ্কা, স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়া লোহিত সাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য তাদের ভূখণ্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে ইথিওপিয়া ১০ জন ইরিত্রীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে এবং আসমারায় নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। পাল্টা ইরিত্রিয়াও ইথিওপিয়ার সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করে। এর মধ্যেই TPLF যদি ইরিত্রিয়ার দিকে পিছিয়ে যায়, তাহলে ইথিওপিয়া সেখানে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ কেজতিল ট্রনভোলের মতে, উত্তর টাইগ্রেতে কৌশলগত গভীরতা এবং একটি বাফার জোন বজায় রাখা ইরিত্রিয়ার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ইরিত্রিয়া চাইছে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ টাইগ্রের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকুক, যাতে তা ইরিত্রিয়ার মাটিতে ছড়িয়ে না পড়ে।

 

About Desk 3

Check Also

কঙ্গোতে সরকারবিরোধী জোট গড়লেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, এম২৩-সহ একাধিক গোষ্ঠীকে নিয়ে

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জোসেফ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *