ভারত ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা সেপা নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা। কানাডার অটোয়ায় পাঁচ দিন ধরে চলবে এই বৈঠক। দুই দেশই ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রগতির চেষ্টা করছে।
ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা সেপা নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা আজ, ৫ অক্টোবর থেকে কানাডার অটোয়ায় শুরু হচ্ছে। পাঁচ দিনের এই আলোচনা চলবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই দেশের আধিকারিকরা চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা করবেন।
এর আগে চতুর্থ দফার আলোচনা ১৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছিল। এরপর থেকেই চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কানাডার বাণিজ্য মন্ত্রকও জানিয়েছে, দুই দেশই ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে সেপা আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বৈঠকে সেপা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দুই নেতা ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। একইসঙ্গে জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়েও তাঁরা সম্মত হন।
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, একটি বিস্তৃত বাণিজ্য কাঠামো ভারত-কানাডা অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৪.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা বা ৭০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপার আওতায় পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য-সহ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিভিন্ন নীতিগত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হবে। ২ মার্চ ২০২৬ নয়াদিল্লিতে ভারত ও কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে সেপা আলোচনার কাঠামো চূড়ান্ত করে। বাণিজ্যের পরিসংখ্যানও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরছে। সরকারি ভারতীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত-কানাডা পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কানাডায় ভারতের রফতানি ছিল ৪.২২ বিলিয়ন ডলার এবং কানাডা থেকে ভারতের আমদানি ছিল ৪.৪৪ বিলিয়ন ডলার। ভারতের কানাডায় উল্লেখযোগ্য রফতানির মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস, লোহা ও ইস্পাত, সামুদ্রিক পণ্য, তুলোর পোশাক, ইলেকট্রনিক পণ্য এবং রাসায়নিক। অন্যদিকে কানাডা থেকে ভারত মূলত ডাল, মূল্যবান ও অর্ধ-মূল্যবান পাথর, কয়লা, সার, কাগজ এবং অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানি করে। পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতের টেলিকম, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক পরিষেবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে অটোয়ার এই পঞ্চম দফার আলোচনাকে সেপা চুক্তির দিকে এগোনোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের লক্ষ্য এখন আলোচনার বাকি বিষয়গুলিতে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছে বছরের শেষের মধ্যে চুক্তির আলোচনা সম্পূর্ণ করা।
Geopulse TV
