জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে দুই সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি করে জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।
‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জলবায়ু মোকাবিলায় প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ বা ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান তারেক রহমান।
বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০ দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক পার্শ্ববৈঠকে সংকট সমাধানে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান। পাশাপাশি সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা জোরদার, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘে দুই ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
Geopulse TV
