বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের সাত প্রাক্তন মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এই রায় ঘোষণা করা হয়। তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রি এবং আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শেক হাসিনা সরকারের আমলে তিনি দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ মঞ্জুরুল বাসিত এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের তালিকায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রাক্তন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রাক্তন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হোসেন নিখিল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ এনান।
শেক হাসিনার শাসন কালে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের কর্মীদের সঙ্গে দেশজুড়ে প্রচার ও সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উঠে আসেন। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেক হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি এবং মোহম্মদ আলী আরাফাত দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করেছে বলে জানা যায়। এই রায় এমন এক সময় এল, যখন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং সেই সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। চলতি মাসের গোড়ায় এক সাক্ষাৎকারে প্রক্তন প্রধানমন্ত্রী শেক হাসিনা বলেছিলেন, আন্দোলনের সময় তিনি সরাসরি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না।
শেক হাসিনার বক্তব্য, “পুলিশ যখন মাঠে কাজ করছে, তখন তারা কীভাবে প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করবে?” তিনি আরও বলেন, পুলিস নিদিষ্ট কার্যপ্রণালী অনুযায়ী কাজ করে এবং জরুরি পরিস্থিতি, ভির নিয়ন্ত্রণ ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি সামলানোর প্রশিক্ষণ পায়। পুলিশকর্মীদের ওপরে হামলা, মৃত্যু এবং থানায় আগুন লাগার ঘটনার পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Geopulse TV
