নির্বাচনী সাফল্যের পর আলবেনিজকে নিশানা হ্যানসনের, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

অস্ট্রেলিয়ায় জনমত জরিপে ওয়ান নেশন পার্টির জনপ্রিয়তা বাড়ার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন দলটির নেতা পলিন হ্যানসন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

প্রায় তিন দশক আগে রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরোধিতা করলেও বর্তমানে হ্যানসনের রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে।

১৯৯৮ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হ্যানসন বলেছিলেন, কারও নীতি বা মতের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে শুধুমাত্র মতের অমিলের কারণে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হেয় করা উচিত নয়।

তবে প্রায় ৩০ বছর পর পরিস্থিতি বদলেছে। জনমত জরিপে ওয়ান নেশনের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দলটি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজকে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করছে।

‘ফায়ার দ্য লায়ার’ প্রচারণা

ওয়ান নেশন দাবি করেছে, অ্যান্থনি আলবেনিজকে লক্ষ্য করে পরিচালিত তাদের ‘ফায়ার দ্য লায়ার’ তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা কয়েক মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।

রোববার পলিন হ্যানসন প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজের একটি বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। কুইন্সল্যান্ড লেবার পার্টির এক সম্মেলনে আলবেনিজ ‘কট্টর ডানপন্থী জনতাবাদীদের’ রাজনীতিকে ‘বিপজ্জনক, বিভাজনমূলক এবং সম্পূর্ণ অসৎ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এর এক দিন আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সিক্রেট হারবার উপনির্বাচনে ওয়ান নেশনের জয়ের দাবি সামনে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হ্যানসন দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য একটি সীমা অতিক্রম করেছে। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে।

এ সময় তিনি জুলাই মাসে ব্রিটিশ রাজনীতিক অ্যান উইডিকম্বের মৃত্যুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। ওই ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্ত করছে।

রাজনৈতিক আক্রমণ ও পাল্টা অবস্থান

হ্যানসন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ ছাড়াও দেশটির ট্রেজারার জিম চালমার্স এবং অন্যান্য রাজনীতিককে লক্ষ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছোট কিন্তু ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা বিরোধী দল হিসেবে ওয়ান নেশনের জন্য লেবার পার্টিকে আক্রমণ করা এবং প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।

তবে লেবার পার্টির জন্য হ্যানসনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াইয়ে জড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজ বারবার অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে উত্তেজনার মাত্রা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ওয়ান নেশনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে নীতি ও রাজনৈতিক ইস্যুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আলবেনিজ তাঁর বক্তব্যে সরাসরি ওয়ান নেশনের নাম উল্লেখ করে ‘বিপজ্জনক, বিভাজনমূলক এবং অসৎ’ মন্তব্যটি করেননি। তবে পলিন হ্যানসন বিষয়টিকে তাঁর দলকে লক্ষ্য করেই করা মন্তব্য হিসেবে দেখেছেন।

এর আগে চলতি বছর ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্টা অ্যালান নারীবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হওয়ার পর তাঁকে সহানুভূতি দেখাননি হ্যানসন। সে সময় তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘এটা সহ্য করো’।

ওয়ান নেশনের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্য ও জনমত জরিপে অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার প্রেক্ষাপটে দলটির সঙ্গে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

About Desk 2

Check Also

অস্ট্রেলিয়ার ‘মাশরুম হত্যাকাণ্ড’ মামলায় বড় মোড়, বিচারকদের হোটেল নিয়ে প্রশ্ন

অস্ট্রেলিয়ার বহুল আলোচিত ‘মাশরুম হত্যাকাণ্ড’ মামলায় দোষী সাব্যস্ত এরিন প্যাটারসনের আইনজীবীরা তার সাজা ও দোষী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *