রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সামরিক আইন জারি থাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ফেদোরভের এই আহ্বানকে জেলেনস্কির নেতৃত্বের জন্য যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ বলেন, রাশিয়ার হাতে গণতন্ত্রকে জিম্মি করা উচিত নয়। ইউক্রেন স্বাধীন ও ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্যই যুদ্ধ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সামরিক আইন চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করা যায় না।
গত মাসে মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয় ফেদোরভকে। তার অপসারণের পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
ফেদোরভের অপসারণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে তার টানাপোড়েনের সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই সিরস্কিকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফেদোরভকে সরকারের অন্য পদে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি শুধু প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই ফিরতে চান বলে জানিয়েছিলেন।
এদিকে ফেদোরভের নির্বাচনের দাবি নিয়ে ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ রাশিয়ার নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে দেশজুড়ে নিরাপদ ও অবাধ ভোট আয়োজন করা অত্যন্ত কঠিন।
জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হলেও সামরিক আইন বহাল থাকায় তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, কিয়েভ নির্বাচন এড়াতে যুদ্ধকে ব্যবহার করছে। জেলেনস্কি তখন বলেছিলেন, মিত্ররা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত।
তবে ফেদোরভের দাবি শুধু নির্বাচন আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ইউক্রেনে ‘সরকার পরিচালনার কাঠামোগত সংকট’ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন। যুদ্ধের প্রচেষ্টাকে দুর্নীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দেশটি পরিবর্তনকে ভয় পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনমন্ত্রী হিসেবে ফেদোরভ ইউক্রেনের প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ সক্ষমতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার কার্যক্রম, ‘আর্মি অব ড্রোনস’ প্রকল্প এবং ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধ কৌশল জোরদারে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
ফেদোরভের নির্বাচনের আহ্বান এখন ইউক্রেনের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যুদ্ধের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কীভাবে চালু করা সম্ভব এবং জেলেনস্কির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বৈধতা—এই দুই প্রশ্নই সামনে আরও বড় হয়ে উঠতে পারে।
Geopulse TV
