হিরোশিমা দিবসে পরমাণু হামলার নিহতদের শ্রদ্ধা, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির আহ্বান

আজ হিরোশিমা দিবস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা শহরে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করছে বিশ্ব। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সংঘটিত ওই ভয়াবহ হামলায় মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বছরের শেষ নাগাদ মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছায়।

এই উপলক্ষে আজ হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পরমাণু হামলার নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে স্মৃতিসৌধে ৩,৫৩,৬৩৯ জন নিহতের নাম সংবলিত নিবন্ধনপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও নেতারা বিশ্ব থেকে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে পরমাণু হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা, যাঁদের হিবাকুশা নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তাঁদের সেই বার্তাই এদিন আরও একবার তুলে ধরা হয়।

হিরোশিমায় হামলার মাত্র তিন দিন পর, ৯ আগস্ট ১৯৪৫, জাপানের আরেক শহর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই দুই হামলার পরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

হিরোশিমা দিবস শুধু ইতিহাসের এক ভয়াবহ ঘটনার স্মরণ নয়, বরং শান্তি, মানবতা এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের পক্ষে নতুন করে অঙ্গীকার করার দিন হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিনটি পালন করা হয়।

আজকের অনুষ্ঠানে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার যে মানবসভ্যতার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, হিরোশিমার ইতিহাস সেই সতর্কবার্তাই আজও বহন করে চলেছে।

About Desk 3

Check Also

বেলুচিস্তানে গুম ও নির্বিচারে আটকের অভিযোগ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুম, নির্বিচারে আটক এবং জোর করে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *